৩০শে মে, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল বিপথগামী সেনাকর্মকর্তার নির্মম বুলেটের আঘাতে শাহাদতবরণ করেন আধুনিক বাংলাদেশের এই দূরদর্শী রূপকার।
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
১৯৩৬ সালের ১৯শে জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলীতে জন্মগ্রহণ করা জিয়াউর রহমান ছিলেন একাধারে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা, সফল সামরিক অধিনায়ক এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক।
১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা পাঠ করে তিনি দিশেহারা জাতিকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা জোগান।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার এবং ‘জেড ফোর্সের’ অধিনায়ক হিসেবে তিনি সম্মুখ সমরে নেতৃত্ব দেন। বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে ‘বীর উত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন।
‘একুশ দফা’ কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার ডাক দেন। খাল খনন কর্মসূচি, সবুজ বিপ্লব এবং গণশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি করেন তিনি।
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা এবং দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সকালে শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতির মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাবেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ। দিবসটি উপলক্ষে আজ নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়সহ সব কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে
শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বাণীতে দেশপ্রেমিক এই জননেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়, শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ এবং তাঁর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দর্শন আজও আমাদের যেকোনো সংকটে পথ দেখায়।
একটি স্বনির্ভর, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে।

















