সম্প্রতি সময়ের আলো নামক অনলাইন নিউজ সহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাচনকালীন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সংবলিত যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উক্ত সংবাদটি প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার তথ্য উপাত্ত যাচাই, প্রাসঙ্গিক নথি পর্যালোচনা কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গ্রহণ ব্যতীত একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি, পেশাগত নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনার সুস্পষ্ট পরিপন্থী। এর ফলে দায়িত্বশীল সরকারি কার্যক্রম, প্রশাসনিক ভাবমূর্তি, পেশাগত সুনাম ও ব্যক্তিগত মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং একইসঙ্গে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃত বাস্তবতা হলো, নির্বাচনকালীন সকল কার্যক্রম যেমন সিসি ক্যামেরা স্থাপন, আপ্যায়ন ব্যয়, স্টেশনারি ক্রয়, যানবাহন ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, জনবল নিয়োগ এবং কন্ট্রোল রুম পরিচালনা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা, প্রচলিত সরকারি আর্থিক বিধি বিধান এবং যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ব্যয়ের বিপরীতে বৈধ বিল, ভাউচার, অনুমোদনপত্র, সরবরাহ গ্রহণপত্র ও হিসাব সংক্রান্ত নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষিত রয়েছে, যা যেকোনো সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থার নিকট উপস্থাপনযোগ্য। সরকারি অর্থ সর্বদা জনগণের আমানত হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় প্রতিটি ব্যয় সর্বোচ্চ সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। অতএব অর্থ আত্মসাত , ভুয়া ভাউচার, দুর্নীতি বা জ্বালানি কারচুপি সংক্রান্ত অভিযোগসমূহ সম্পূর্ণ মনগড়া, অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আইনগতভাবে মানহানিকর।
উক্ত সংবাদে সিসি ক্যামেরা স্থাপন সংক্রান্ত যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতার পরিপন্থী। এ সংক্রান্ত সকল ব্যয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও সরকারি বিধি বিধান অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সকল নথি যথাযথভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। একইভাবে নির্বাচনকালীন দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য সরকার নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী আপ্যায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ‘এক বোতল পানিও দেওয়া হয়নি’ মর্মে যে বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য ও বাস্তবতাবিবর্জিত।
স্টেশনারি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় সরকারি আর্থিক বিধি, সরকারি ক্রয়বিধি এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে সম্পূর্ণ নিয়মিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে। যানবাহন ও জ্বালানি সংক্রান্ত ব্যয়ও নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত বরাদ্দ অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে। ব্যক্তিগত কাজে সরকারি জ্বালানি ব্যবহার বা দ্বৈত ব্যয়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। স্পষ্টভাবে উল্লেখ্য, অফিসিয়াল দায়িত্ব ব্যতীত কোনো ব্যক্তিগত কাজে সরকারি যানবাহন বা জ্বালানি ব্যবহার করা হয়নি। খণ্ডকালীন করণিক ও পিয়ন নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রকৃত বাস্তবতা হলো, নির্বাচন একটি কঠোর আইনানুগ ও নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। যদি কোনো নিয়োগ বাস্তবায়িত না হয়ে থাকে, তবে সেই খাতে আত্মসাতের প্রশ্নই আসে না এবং বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন কন্ট্রোল রুম সম্পূর্ণ সময়জুড়ে কার্যকর ছিল এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এখানে আরও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, উক্ত সংবাদটি প্রকাশের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বা প্রতিবেদকের ব্যক্তিগত অভিমত, পূর্ববর্তী অসন্তোষ বা প্রশাসনিক কোনো সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষুব্ধ থাকার বিষয়টি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে প্রতীয়মান হয়, যার প্রতিফলন সংবাদ উপস্থাপনায় পক্ষপাতমূলক ও একপাক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। কোনো প্রশাসনিক ফাইল বা প্রক্রিয়াগত বিষয়ে যাচাই বাছাই ব্যতীত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না হওয়াকে কেন্দ্র করে যদি কোনো ব্যক্তিগত অসন্তোষ থেকে থাকে, তবে তা সংবাদে প্রতিফলিত হওয়া সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী। একইসঙ্গে দপ্তরের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রমকে ব্যক্তিগতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
সার্বিকভাবে উক্ত সংবাদটি কোনো প্রকার সত্যতা যাচাই ছাড়া, দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য উপেক্ষা করে প্রকাশ করা হয়েছে, যা সাংবাদিকতার নীতিমালা ও পেশাগত দায়িত্বের গুরুতর লঙ্ঘন। কোনো প্রশাসনিক বা আর্থিক বিষয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই আইনানুগ তদন্ত, নথি যাচাই এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণযোগ্য৷ কিন্তু যাচাইবিহীনভাবে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে সংবাদ প্রকাশ করা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অপপ্রচার জনআস্থা বিনষ্ট করে, প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় এবং একজন সরকারি কর্মকর্তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করে, যা প্রচলিত দণ্ডবিধি, মানহানি আইন এবং প্রযোজ্য তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। উপজেলা প্রশাসন, দেলদুয়ার সর্বদা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী এবং যেকোনো নিরপেক্ষ ও বৈধ তদন্তকে স্বাগত জানায়; একইসঙ্গে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসন দৃঢ় ও অটল অবস্থানে রয়েছে।















